পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন

৫০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ৫০ কোটি টাকার বেশি এমন খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ৫০ কোটি টাকার বেশি এমন খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তবে বিশেষ এ সুবিধা কেবল তারাই পাবেন, যারা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ঋণখেলাপি হয়ে গেছেন। খেলাপিদের আবেদন যাচাই-বাছাই করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইডি হিসেবে আছেন মো. মেজবাউল হক। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. দেলোয়ার হোসেন, অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশীদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আছেন হক’স বে অটোমোবাইলসের কর্ণধার আবদুল হক। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (ডিভিশন-১) পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকীকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

এদিকে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধার বিষয়টি জানিয়ে গতকালই দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতিসহায়তা প্রদানসংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ শীর্ষক ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘অর্থনীতিকে চলমান রাখা এবং ব্যাংক খাতকে সুসংহত করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকের ঋণ আদায় নিশ্চিতকল্পে সমস্যাসংকুল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সচল ও লাভজনক করার বিষয়ে বিদ্যমান ঋণসংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

গঠিত এ কমিটির কার্যপরিধির বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ‘নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণ যেমন কভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিম্ন প্রবৃদ্ধি, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ভিত্তিক শ্রেণীকৃত রয়েছে এমন ৫০ কোটি ও তদূর্ধ্ব ঋণ পর্যালোচনাপূর্বক ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদির পুনর্গঠনের এবং বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা প্রদানের জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক সুপারিশ প্রদান করা হবে।’

চিঠিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় নীতিসহায়তা প্রদানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে তিন দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাকে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করবে। ঋণগ্রহীতার আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে শ্রেণীকৃত এমন ৫০ কোটি ও তদূর্ধ্ব অংকের ঋণগুলো নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে প্রকৃতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা এবং সমস্যাসংকুল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও ওই প্রতিষ্ঠানকে নীতিসহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে কিনা, তা যাছাই-বাছাই পূর্বক নির্ধারণ করবে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা সচল রাখা ও অনাদায়ী ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে ঋণগ্রহীতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব, ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা এবং সুদ মওকুফ বা ঋণ পুনঃতফসিলীকরণসহ প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা প্রদানের জন্য পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (ডিভিশন-১), বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে।

আরও